• ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩, সোমবার ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Howrah

রাজ্য

অন্নপূর্ণা থেকে আবাস, কৃষি থেকে শিক্ষাশ্রী! শুক্রবার থেকেই ২০ প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারবেন

পুজোর মরসুমের মধ্যেই সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবার সুবিধা আরও সহজে পৌঁছে দিতে শুক্রবার, ২ অক্টোবর থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে তিন দিনের বিশেষ সেবা সেতু অভিযান। ২, ৩ ও ৪ অক্টোবর এই শিবির চলবে। কলকাতার ১৬টি বরো এবং রাজ্যের বিভিন্ন ব্লক ও পুর এলাকায় এই পরিষেবা শিবির আয়োজন করা হচ্ছে।এই শিবিরে একাধিক সরকারি প্রকল্পের জন্য আবেদন এবং পরিষেবা সংক্রান্ত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকবে। অন্নপূর্ণা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, শিক্ষাশ্রী, জয় জোহার, প্রধানমন্ত্রী কিষান ক্রেডিট কার্ড, প্রধানমন্ত্রী কিষান স্বনিধি-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি প্রকল্পের বিষয়ে তথ্য জানার পাশাপাশি যোগ্য ব্যক্তিরা নতুন করে আবেদনও করতে পারবেন বলে জানা গিয়েছে।প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিবির চলার কথা। বিভিন্ন সরকারি দফতরের আধিকারিকরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। একাধিক ব্যাঙ্কের তরফেও কাউন্টার খোলার ব্যবস্থা থাকবে। ফলে সরকারি প্রকল্পের আবেদন বা পরিষেবা সংক্রান্ত কোনও সমস্যা থাকলে সাধারণ মানুষ সরাসরি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন।কলকাতায় প্রতি দুটি ওয়ার্ডের জন্য একটি করে বিশেষ সহায়তা শিবির খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের কাছাকাছি শিবিরে গিয়ে সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য নিতে এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবার জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।এবারের সেবা সেতু অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য হল সরকারি প্রকল্পের সুবিধা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে অনেকের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় তাঁরা অনেক সময় আবেদন করতে পারেন না। সেই সমস্যা কমাতেই একই জায়গায় বিভিন্ন পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।শিবিরে সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়তে পারে বলে আগেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ করতে অনেক মানুষ আসতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। তাই পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি ভিড় সামলানোর দিকেও নজর রাখা হচ্ছে।কলকাতার প্রতিটি শিবিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য লালবাজারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিন দিনই শিবিরগুলিতে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি প্রকল্পের কাউন্টারে যাতে ভিড়ের কারণে কোনও সমস্যা তৈরি না হয়, সে দিকেও নজর থাকবে প্রশাসনের।সাম্প্রতিক সরকারি কর্মসূচির নির্দেশিকা অনুযায়ী, সেবা সেতু অভিযান সেবা সংকল্প অভিযান-এর একটি অংশ। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বৃহত্তর কর্মসূচির আওতায় ২ থেকে ৪ অক্টোবর জনকল্যাণমূলক পরিষেবা শিবির আয়োজনের কথা রয়েছে।ফলে সরকারি প্রকল্পে নতুন করে আবেদন করতে চান বা কোনও প্রকল্পের পরিষেবা নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন, এমন মানুষের জন্য ২ থেকে ৪ অক্টোবরের এই শিবির গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নিজের এলাকার শিবিরের নির্দিষ্ট স্থান ও সময় স্থানীয় প্রশাসন বা সরকারি তথ্যসূত্র থেকে যাচাই করে নিয়ে সেখানে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

অক্টোবর ০১, ২০২৬
রাজ্য

পুজো মিটলেই পুরভোটের দামামা! কলকাতা-সহ সাত পুরসভায় কবে ভোট, সামনে এল সম্ভাব্য দিন

পুজোর মরসুম শেষ হলেই রাজ্যে পুরভোটের আবহ তৈরি হতে পারে। কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়াংএই সাতটি পুরসভায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। তবে এখনও ভোটের দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা হয়নি। সাম্প্রতিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট হতে পারে এবং ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই গোটা প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।এই সাতটি পুরসভায় মোট ৬৩০১টি বুথে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। ভোটের পরিকাঠামো চূড়ান্ত করতে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্ত। কোথায় কত বুথ, কত ইভিএম এবং কত সংখ্যক ভোটকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মী প্রয়োজন, সেই বিষয়গুলি নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। কমিশন সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহ থেকেই সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে ইভিএম পাঠানোর কাজ শুরু হতে পারে।প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুজোর পর অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে পুরভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে। তার পর নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ২৭ থেকে ২৯ নভেম্বরের মধ্যে ভোট হতে পারে। তবে চূড়ান্ত দিনক্ষণ কমিশনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরেই নিশ্চিত হবে।এই পুরভোটে সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে কলকাতা ও হাওড়ার দিকে। হাওড়া পুরসভায় শেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৩ সালে। ২০১৮ সালে সেই পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে সেখানে নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। প্রশাসকের মাধ্যমে পুর পরিষেবা পরিচালিত হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ ১৩ বছর পর হাওড়ায় পুরভোট হতে পারে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।বর্তমানে রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৫টি পুরসভায় নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। প্রশাসক বসিয়ে সেখানে পুর পরিষেবা চালানো হচ্ছে। হাওড়া ছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন হয়নি এমন পুরসভাগুলির মধ্যে রয়েছে দুর্গাপুর, ডোমকল, রায়গঞ্জ, বুনিয়াদপুর, পূজালি, কার্শিয়াং, মিরিক, কালিম্পং, পাঁশকুড়া, হলদিয়া, কুপার্স ক্যাম্প, নলহাটি, বালি এবং ধূপগুড়ি।এর পাশাপাশি আগামী বছরের শুরুতেই রাজ্যের আরও বেশ কিছু পুরসভার বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত বোর্ড না থাকা পুরসভা এবং মেয়াদ শেষ হতে চলা পুরসভাগুলিকে নিয়ে আগামী কয়েক মাসে বড় আকারের পুরভোটের প্রস্তুতি নিতে হবে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে।নির্বাচন কমিশনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় কাজ হল সময়মতো ভোটের সমস্ত প্রস্তুতি শেষ করা। ভোটার তালিকা, বুথ, ইভিএম, ভোটকর্মী এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থাপ্রতিটি বিষয়েই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সাত পুরসভার ভোটের প্রস্তুতি শেষ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাকি পুরসভাগুলির নির্বাচন কী ভাবে করা যায়, সেই পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।ফলে পুজোর মরসুম শেষ হওয়ার পরেই রাজ্যে ফের ভোটের আবহ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। কলকাতা ও হাওড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ পুরসভা-সহ সাতটি পুরসভায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট হলে ডিসেম্বরের শুরুতেই ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সূচির জন্য এখন অপেক্ষা করতে হবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার।

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
কলকাতা

পুরভোটের আগে বড় দুশ্চিন্তা! কলকাতা-হাওড়ার ২ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম এখনও অনিশ্চিত

আসন্ন পুরভোটের আগে কলকাতা ও হাওড়ার ২ লক্ষেরও বেশি ভোটারের ভোটাধিকার নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এসআইআরের সময় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু কয়েক মাস কেটে গেলেও বহু আবেদনকারীর এখনও শুনানির ডাক আসেনি। ফলে পুরভোটে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা এলাকা মিলিয়ে এসআইআর সংক্রান্ত ২ লক্ষ ২৯ হাজার ৬০টি আবেদন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৫৪৮৫টি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে আগামী পুরভোটের আগে নাম ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কলকাতা ও হাওড়ায় পুরভোটের প্রস্তুতি এগোচ্ছে। কিন্তু এসআইআরে নাম বাদ পড়া বহু ভোটারের ক্ষেত্রে এখনও নিশ্চিত নয়, তাঁরা চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় জায়গা ফিরে পাবেন কি না।কলকাতার ভবানীপুর, বন্দর, রাসবিহারী এবং বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের একাধিক আবেদনকারী এখনও ট্রাইব্যুনালের শুনানির অপেক্ষায় রয়েছেন বলে অভিযোগ। আইনজীবীদের মাধ্যমে আবেদন জমা দিয়েও শুনানির তারিখ না পাওয়ায় তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।এই সমস্যা শুধু কলকাতা ও হাওড়ায় সীমাবদ্ধ নয়। রাজ্যজুড়ে এসআইআর সংক্রান্ত আবেদনের সংখ্যা কয়েক দশক লক্ষ। নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে, মোট ৩৮ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। তার মধ্যে ৩৭ লক্ষের বেশি আবেদন এখনও বিচারাধীন।নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক হলফনামা অনুযায়ী, বর্তমানে ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল এই আবেদনগুলির শুনানি করছে। কমিশন জানিয়েছে, দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪২টি করার প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমান গতিতে কাজ চললে সমস্ত আবেদন নিষ্পত্তি করতে ১২ বছরেরও বেশি সময় লেগে যেতে পারে বলেও কমিশন সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে।কমিশনের হিসাব বলছে, এখনও পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনের সংখ্যা মোট আবেদনের তুলনায় খুবই কম। এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে ট্রাইব্যুনালগুলি কাজ শুরু করার পর ১ লক্ষ ২৬ হাজারের কিছু বেশি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে বলে সাম্প্রতিক তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।এই পরিস্থিতিতে পুরভোটের আগে এসআইআরে নাম বাদ পড়া ভোটারদের দ্রুত শুনানি এবং ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি উঠছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি তৃণমূলের একাংশও এই বিষয়টি নিয়ে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার অভিযোগ করেছেন, ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা না বাড়ানোর কারণে আবেদনকারীদের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, পুরভোটের আগে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।তৃণমূলের তরফেও ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি তোলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাদের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর আবেদনকারীদের দ্রুত শুনানির সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।তবে এই অভিযোগগুলির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। কমিশন জানিয়েছে, এসআইআর সংক্রান্ত বিপুল সংখ্যক আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করতেই ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কমিশনের দাবি, বর্তমানে যে সংখ্যক ট্রাইব্যুনাল রয়েছে, তাতে এত বিপুল আবেদন দ্রুত মেটানো কঠিন।ফলে পুরভোট যত এগিয়ে আসছে, কলকাতা ও হাওড়ার এসআইআরে নাম বাদ পড়া ভোটারদের সামনে প্রশ্নটা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেসময়মতো তাঁদের আবেদন শুনবে ট্রাইব্যুনাল? ভোটার তালিকায় নাম ফিরবে? আর শেষ পর্যন্ত পুরভোটে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, সেই উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
রাজ্য

হাওড়ায় মিলল হামিমের গোপন ঘাঁটি! জামার ট্যাগের দোকানের আড়ালে চলত কী ভয়ঙ্কর খেলা?

জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যোগের অভিযোগে গ্রেপ্তার হামিম মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে ফের বড় তথ্য সামনে এসেছে। এবার হাওড়ার পিলখানায় তার ব্যবহৃত একটি ঠিকানার খোঁজ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, সেখানে জামাকাপড়ের ট্যাগ তৈরির কাজ হত। তবে এই ব্যবসার আড়ালে অন্য কোনও কার্যকলাপ চলত কি না, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই ঠিকানা থেকেই বিভিন্ন পরিকল্পনা পরিচালিত হত কি না, সেই দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।কয়েক দিন আগে পূর্ব বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তে উঠে এসেছে, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি চক্রের সঙ্গে তার যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের গতিবিধি নজরদারির অভিযোগও সামনে এসেছে। সেই সূত্র ধরেই হামিমের অতীত এবং তার ব্যবহৃত বিভিন্ন ঠিকানা নিয়ে তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে।প্রথমে জানা গিয়েছিল, হামিমের বাড়ি হাওড়ার পিলখানায়। কিন্তু সুনির্দিষ্ট ঠিকানা পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তদন্তে আলম মিস্ত্রি লেনের একটি বহুতলের খোঁজ মেলে। ওই বহুতলের একতলায় ভাড়া নেওয়া দুটি ঘরেই থাকত হামিম বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে একটি ছোট ব্যবসা পরিচালিত হত।স্থানীয় সূত্রের দাবি, একটি ঘরে জামাকাপড়ের ট্যাগ তৈরির মেশিন বসানো ছিল। অন্য ঘরে কম্পিউটারের মাধ্যমে অফিসের কাজ করা হত। হামিমের বাবা মনিরউদ্দিন মণ্ডলও সেখানে থাকতেন বলে জানা গিয়েছে। তবে হামিমের বিরুদ্ধে জঙ্গি কার্যকলাপের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই জানিয়েছেন, তাঁরা কোনওদিনও এমন সন্দেহ করেননি।বহুতলের মালিক জানিয়েছেন, প্রায় দুই বছর আগে ঘর দুটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। একটি ঘরের মাসিক ভাড়া ছিল সাত হাজার টাকা এবং অন্যটির চার হাজার টাকা। তাঁর দাবি, গত প্রায় দুই মাস ধরে হামিমকে এলাকায় দেখা যায়নি। গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে তার বাবাকেও আর এলাকায় দেখা যাচ্ছে না।স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর দাবি, হামিমের বাবার সঙ্গে মাঝে মধ্যে দেখা হলেও হামিমের সঙ্গে তেমন কোনও যোগাযোগ ছিল না। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, ওই ব্যবসা শুধুই ব্যবসা ছিল, নাকি তার আড়ালে অন্য কোনও কার্যকলাপ চলত। পাশাপাশি হামিমের সঙ্গে যিনি বাবা পরিচয়ে থাকতেন, তিনি সত্যিই তার বাবা ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় এসেছে।

আগস্ট ০২, ২০২৬
রাজ্য

দু’দিন পর ফিরল নিখোঁজ জাতীয় শ্যুটার! ঘর ছাড়ার আসল কারণ জানতেই চমকে উঠছে সবাই

দুদিনের উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার অবসান। অবশেষে বাড়ি ফিরেছে হাওড়ার প্রতিভাবান কিশোরী শ্যুটার দময়ন্তী সেন। ভোরবেলা হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাট থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছন পরিবারের সদস্যরা। মেয়েকে ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন সবাই।দময়ন্তীর বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন জানিয়েছেন, মেয়ের উপর পড়াশোনা এবং খেলাধুলাদুই দিক থেকেই মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল। সামনে মাধ্যমিক পরীক্ষা থাকায় পড়ার চাপ বাড়ছিল। অন্যদিকে নিয়মিত অনুশীলনের কারণে স্কুলে উপস্থিতি কমে যাচ্ছিল। এ নিয়ে স্কুল থেকে অভিভাবকদেরও ডাকা হয়েছিল। তবে দময়ন্তীর ইচ্ছে ছিল খেলাধুলাতেই নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার। সেই বিষয়টি তিনি সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংস্থাকেও জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।বাবার কথায়, দময়ন্তী নিজেই ফিরে এসেছে। সে জানিয়েছে, সারারাত ঘুমায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে হেঁটেছে। পথে এক তরুণী তাকে খাবার খেতে দিয়েছিলেন। অনেকেই সাহায্য করেছেন, কিন্তু কেউ তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেননি। মেয়ের এই কথায় পরিবার যেমন কিছুটা আশ্বস্ত, তেমনই এখনও পুরো ঘটনার কারণ জানার চেষ্টা চলছে।দময়ন্তীর বাবা রাজ্য পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁর দাবি, সারা রাত পুলিশ নিয়মিত মেয়ের গতিবিধির খবর দিয়েছে। কোথায় যাচ্ছে, কীভাবে যাতায়াত করছে, সব তথ্য জানানো হয়েছিল। সেই কারণেই তাঁদের বিশ্বাস ছিল, মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়া যাবে।হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পড়াশোনা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে কিছু মতভেদ তৈরি হয়েছিল। সেই কারণেই দময়ন্তী বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যায় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। বর্তমানে সে পরিবারের সঙ্গেই রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সে কোথায় কোথায় ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

জুলাই ১৮, ২০২৬
রাজ্য

দু’দিনের দুশ্চিন্তার অবসান! উদ্ধার হলেন হাওড়ার তরুণ শুটার দময়ন্তী, পড়াশোনা ও শুটিংয়ের চাপেই কি বাড়ি ছাড়া?

হাওড়ার প্রতিভাবান রাইফেল শুটার দময়ন্তী সেনকে অবশেষে উদ্ধার করল পুলিশ। গত দুদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর শনিবার ভোরে হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাট এলাকা থেকে ১৫ বছরের এই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে সে পুলিশের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। আদালতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অপহরণ বা অন্য কোনও অপরাধমূলক ঘটনার পরিবর্তে পারিবারিক মনোমালিন্যই দময়ন্তীর বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার মূল কারণ হতে পারে। বিশেষ করে পড়াশোনা এবং রাইফেল শুটিংয়ের কঠোর অনুশীলনের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে গিয়ে সে মানসিক চাপে ভুগছিল বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, গত দুদিন দময়ন্তী একাই বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছে। অবশেষে নিজের জেলায় ফিরে আসার পর রামকৃষ্ণপুর ঘাট এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। যদিও তার দেওয়া বয়ান এখনও যাচাই করে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, এই সময়ের মধ্যে সে কোথায় কোথায় ছিল এবং কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল কি না।দময়ন্তী সেন রাজ্যস্তরের একজন প্রতিশ্রুতিশীল রাইফেল শুটার। অলিম্পিয়ান জয়দীপ কর্মকারের রাইফেল শুটিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে অনুশীলন করছে সে। সম্প্রতি জাতীয় দলের ট্রায়ালেও সুযোগ পেয়েছিল, যা তার কেরিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে। প্রতিদিন ভোরে নিয়মিত অনুশীলনের পাশাপাশি স্কুলের পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে হচ্ছিল তাকে। এই দুইয়ের চাপই ধীরে ধীরে মানসিক অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছিল বলে মনে করছে পুলিশ।দময়ন্তীর পরিবার জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে দুধ কিনতে বেরিয়েছিল সে। তারপর আর বাড়ি ফেরেনি। তার মোবাইল ফোনটিও বাড়িতেই রেখে গিয়েছিল, ফলে কোনওভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। উদ্বিগ্ন পরিবার দ্রুত থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে। তদন্তে নেমে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে জানতে পারে, শেষবার তাকে হাওড়া স্টেশন এলাকায় দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকেই জোরকদমে শুরু হয় তল্লাশি।আরও পড়ুনঃ জাতীয় দলে সুযোগের মুখে হঠাৎ উধাও! কোথায় গেল হাওড়ার কিশোরী শুটার, ঘনাচ্ছে রহস্যমেয়েকে ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন। তিনি বলেন, মেয়ে নিরাপদে রয়েছেএটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়। তাঁর মতে, পড়াশোনা ও শুটিংয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে দময়ন্তী হয়তো মানসিক চাপে পড়েছিল। বিশেষ করে পড়াশোনাকে কেন্দ্র করেই পরিবারের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে তাঁর ধারণা।হাওড়া জেলা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) তৌসিফ আলি জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে পড়াশোনা সংক্রান্ত বিষয়েই পরিবারের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে দময়ন্তী বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল। তবে তার বক্তব্যের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত এখনও চলছে।তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, জাতীয় স্তরে ওঠার লক্ষ্যে কঠোর অনুশীলনের চাপের পাশাপাশি পরিবার বা অন্য কোনও দিক থেকে অতিরিক্ত প্রত্যাশা বা মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল কি না। কারণ কিশোর বয়সে পড়াশোনা, খেলাধুলা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে ওঠে।দুদিনের উৎকণ্ঠার পর দময়ন্তীর নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে পরিবার যেমন স্বস্তি পেয়েছে, তেমনই ক্রীড়ামহলেও স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। তবে এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, প্রতিভাবান কিশোর-কিশোরীদের সাফল্যের পথে শুধুমাত্র প্রশিক্ষণ নয়, সমান গুরুত্বপূর্ণ মানসিক সহায়তা এবং পারিবারিক বোঝাপড়াও।

জুলাই ১৮, ২০২৬
রাজ্য

জাতীয় দলে সুযোগের মুখে হঠাৎ উধাও! কোথায় গেল হাওড়ার কিশোরী শুটার, ঘনাচ্ছে রহস্য

জাতীয় দলে ট্রায়ালের সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রতিদিন নিয়ম করে অনুশীলনও করতেন। সেই প্রতিভাবান কিশোরী রাইফেল শুটার দময়ন্তী সেন হঠাৎই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। হাওড়ার মধ্য এলাকার উমাচরণ ভট্টাচার্য লেনের বাসিন্দা বছর পনেরোর দময়ন্তীকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনায় উদ্বিগ্ন পরিবার, সতীর্থ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস কিনতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন দময়ন্তী । কিন্তু তারপর আর তিনি বাড়ি ফেরেননি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ চালিয়েও তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি। এরপর বাধ্য হয়ে হাওড়া থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন পরিবারের সদস্যরা।সবচেয়ে বড় রহস্য, দময়ন্তীর মোবাইল ফোনটি বাড়িতেই পড়ে ছিল। পরিবারের দাবি, আগের রাতে তিনি তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, কারণ পরদিন সকালে অনুশীলনে যাওয়ার কথা ছিল। তাঁর বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন জানিয়েছেন, মেয়ে সম্প্রতি জাতীয় দলে ট্রায়ালের সুযোগ পেয়েছিল এবং খেলাধুলায় ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করছিল ।তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে। হাওড়া স্টেশনের একটি প্ল্যাটফর্মের নজরদারি ক্যামেরায় শেষবার দময়ন্তীকে দেখা গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। কীভাবে এবং কোথায় তিনি গেলেন, তা জানার চেষ্টা চলছে।পরিবারের দাবি, বাড়িতে কোনও অশান্তি বা ব্যক্তিগত সমস্যা ছিল না। তাই হঠাৎ এমন ঘটনা কেন ঘটল, তা নিয়ে সবাই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। সমাজমাধ্যমেও দময়ন্তীর ছবি ছড়িয়ে দিয়ে তাঁর খোঁজ চাওয়া হয়েছে। পুলিশ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চালাচ্ছে।

জুলাই ১৭, ২০২৬
রাজ্য

চলন্ত ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেসে ধোঁয়া-আগুন, বর্ধমানে ২০ মিনিট থমকাল ট্রেন; অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়াল রেল

ইঞ্জিনের পরের কামরার নীচে ব্রেক বাইন্ডিং থেকে আগুন, খানা-তালিতের মাঝে দাঁড় করিয়ে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনলেন রেলকর্মীরা; নিরাপদে রওনা দিল হাওড়ার উদ্দেশেধানবাদ থেকে হাওড়াগামী ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেসে চলন্ত অবস্থায় আচমকাই ধোঁয়া ও আগুন দেখা দেওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল যাত্রীদের মধ্যে। পূর্ব বর্ধমানের খানা জংশন ও তালিত স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটে এই ঘটনা। দ্রুত ট্রেন থামিয়ে রেলকর্মীদের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রায় ২০ মিনিট বন্ধ থাকার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ট্রেনটি আবার হাওড়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। এই ঘটনায় কোনও যাত্রী আহত হননি বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে।রেল সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার বিকেলে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ থেকে নির্ধারিত সময়েই ২২৩৮৭ ডাউন ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেস হাওড়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। যাত্রীদের একাংশের দাবি, পানাগড় পার হওয়ার পর থেকেই ট্রেনে যান্ত্রিক সমস্যার কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। তবে পরিস্থিতি যে এতটা গুরুতর হতে পারে, তা কেউ বুঝতে পারেননি।ট্রেনটি পূর্ব বর্ধমানের দিকে এগোতে থাকলে ইঞ্জিনের ঠিক পরের কামরার নীচ থেকে প্রথমে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ধোঁয়ার সঙ্গে আগুনের শিখাও দেখা যায়। বিষয়টি নজরে আসতেই ট্রেনের কর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উদ্যোগ নেন এবং রাত প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিট নাগাদ খানা জংশন ও তালিত স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় ট্রেনটি জরুরি ভিত্তিতে থামিয়ে দেওয়া হয়।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান রেলের প্রযুক্তিগত কর্মী ও আধিকারিকরা। অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহার করে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কামরার ব্রেক ব্যবস্থা এবং অন্যান্য যান্ত্রিক অংশ খতিয়ে দেখা হয়। সমস্ত দিক পরীক্ষা করে ট্রেনটিকে নিরাপদ ঘোষণা করার পর রাত প্রায় ৮টা ২০ মিনিট নাগাদ পুনরায় হাওড়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেস।পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, ইঞ্জিনের পরের কামরায় ব্রেক বাইন্ডিং-এর কারণে অতিরিক্ত ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঘর্ষণ থেকেই ধোঁয়া ও আগুনের সৃষ্টি হয়। তিনি জানান, রেলকর্মীরা দ্রুত সমস্যার সমাধান করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।ঘটনার সময় ওই কামরায় বহু যাত্রী উপস্থিত ছিলেন। ট্রেন থামার সঙ্গে সঙ্গেই আতঙ্কিত যাত্রীরা দ্রুত নেমে নিরাপদ দূরত্বে চলে যান। মুহূর্তের মধ্যে অন্যান্য কামরাতেও খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই উদ্বেগে বাইরে নেমে আসেন। যদিও রেলকর্মীদের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যায়।ধানবাদ থেকে ট্রেনে ওঠা এক যাত্রী জানান, আসানসোলের কিছু আগে থেকেই ট্রেনে একটা অস্বাভাবিক শব্দ হচ্ছিল। পরে তালিতের কাছে এসে দেখি কামরার নীচ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে, তারপর আগুনও দেখা যায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল।এইদিনের ব্ল্যাক ডাইমন্ডের যাত্রীরা জানান, হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখে আমরা খুব ভয় পেয়ে যাই। ট্রেন দাঁড়াতেই নেমে পড়ি। পরে রেলকর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ায় স্বস্তি ফিরে আসে।এই ঘটনার জেরে ধানবাদ-হাওড়া রেলপথে কিছু সময়ের জন্য ট্রেন চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। রেলের তৎপরতায় কোনও প্রাণহানি বা বড়সড় দুর্ঘটনা না ঘটায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন যাত্রীদের পাশাপাশি রেল কর্তৃপক্ষও। তবে চলন্ত ট্রেনে এমন যান্ত্রিক ত্রুটি সামনে আসায় রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

জুলাই ১৬, ২০২৬
রাজ্য

ধূলাগড় টোলগেটের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেল মালবোঝাই গাড়ি, অল্পের জন্য বড়সড় দুর্ঘটনা এড়াল জাতীয় সড়ক

হাওড়ার ধূলাগড় টোলপ্লাজার অদূরে জাতীয় সড়কে মঙ্গলবার সকালে এক মালবোঝাই ছোট পণ্যবাহী গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাওয়ায় সাময়িকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার জেরে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, যা স্বস্তির বিষয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মালবোঝাই গাড়িটি জাতীয় সড়ক ধরে যাওয়ার সময় আচমকাই চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এরপর গাড়িটি রাস্তার ডিভাইডারের ধারে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার অভিঘাতে গাড়িতে থাকা ধাতব সামগ্রী রাস্তার উপর ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ওই অংশে যানবাহন চলাচলে সাময়িক সমস্যা দেখা দেয় এবং আশপাশে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায়।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পুলিশকর্মীরা প্রথমেই দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেন এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনেন। পাশাপাশি রাস্তার উপর ছড়িয়ে থাকা মালপত্র সরিয়ে স্বাভাবিক যান চলাচল পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অতিরিক্ত গতি অথবা ভারসাম্য হারানোর কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। যদিও সঠিক কারণ জানতে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটিকে উদ্ধারের জন্য ক্রেন আনার ব্যবস্থাও করা হয়।স্থানীয়দের দাবি, ধূলাগড় টোলগেট সংলগ্ন জাতীয় সড়কের এই অংশে প্রায়শই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি তুলেছেন তাঁরা।পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করায় বড় ধরনের যানজটও এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ওই রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

জুন ৩০, ২০২৬
রাজ্য

রাতারাতি বদলে গেল হাওড়া স্টেশন! বুলডোজার চালিয়ে উচ্ছেদ শতাধিক দোকান

হাওড়া স্টেশনের বাইরে শনিবার গভীর রাতে বড় উচ্ছেদ অভিযান চালাল রেল পুলিশ। আগেই নোটিস দেওয়া হয়েছিল। সেই মতো রাতেই বুলডোজার নিয়ে স্টেশন চত্বরে পৌঁছে যায় পুলিশ ও আরপিএফ। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে বসে থাকা ডালা এবং অস্থায়ী দোকান সরিয়ে দেওয়া হয়। বুলডোজার চালিয়ে একের পর এক দোকান ভেঙে ফেলা হয়। গোটা স্টেশন চত্বর পরিষ্কার করে দেওয়া হয় রাতারাতি।এই উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায় হাওড়া স্টেশন এলাকায়। রাতেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায় বহু মানুষের। যদিও পুলিশ ছিল কড়া অবস্থানে। মাইক হাতে পুলিশকে বলতে শোনা যায়, এখানে ভিড় করবেন না। যাত্রীরা স্টেশনে চলে যান। যাঁদের বাস ধরার, বাস ধরুন। এখানে কোনও নাটক হচ্ছে না। প্রশাসনকে প্রশাসনের কাজ করতে দিন।পুলিশ সূত্রে খবর, দেড়শোরও বেশি অবৈধ দোকান সরানো হয়েছে এই অভিযানে। প্রচুর পুলিশ ও আরপিএফ মোতায়েন ছিল এলাকায়। তাঁদের উপস্থিতিতেই শুরু হয় বুলডোজার অভিযান। রাতভর চলে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া।ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, একদিন আগেই রেলের তরফে জায়গা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তারপরই শনিবার রাতে অভিযান চালানো হয়। অনেকেই আগেভাগে নিজেদের ডালা ও সামগ্রী অন্যত্র সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন।রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের সুবিধার কথা ভেবেই এই উচ্ছেদ অভিযান করা হয়েছে। স্টেশনের বাইরে রাস্তা ও ফুটপাত ফাঁকা থাকলে সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতে সুবিধা হবে বলেই দাবি রেলের। বহু যাত্রীও এই পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মে ১৭, ২০২৬
রাজ্য

হাওড়া থেকে অভিষেকের বিস্ফোরণ! ‘প্রথম দফাতেই সেঞ্চুরি’, কাঁপছে বিজেপি

প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই দ্বিতীয় দফার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে হাওড়ায় এক জনসভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি নাম না করেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কটাক্ষ করেন এবং ভোটের ফল নিয়েও বড় দাবি করেন।অভিষেক বলেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক জ্যোতিষী নন, তবে আগে যখনই তিনি কোনও ফলাফল নিয়ে মন্তব্য করেছেন, তা সত্যি হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রথম দফার ভোটেই তৃণমূল সেঞ্চুরি করেছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি এখন চাপে রয়েছে এবং নিজেদের ভাল ফল দেখাতে সাংবাদিকদের দিয়ে একটি নির্দিষ্ট ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করছে।অমিত শাহের মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে অভিষেক বলেন, বাইরে থেকে এসে বাংলার মানুষকে হুমকি দেওয়া ঠিক নয়। তিনি জানান, তিনি শুধু শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কোনও অশালীন কথা বলেননি। কিন্তু সেই মন্তব্যকে অন্যভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।এরপর অভিষেক আরও বলেন, ভোটের ফল জানতে বেশি সময় লাগবে না। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, আগামী কয়েক দিন অপেক্ষা করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। তিনি বিজেপি নেতৃত্বকে ফল প্রকাশ পর্যন্ত বাংলায় থাকার কথাও বলেন।এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভোটের দ্বিতীয় দফার আগে এই ধরনের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

এপ্রিল ২৪, ২০২৬
রাজ্য

জয় শ্রীরাম স্লোগানে উত্তাল, মাঝপথেই থামাল পুলিশ! হিরণের প্রচারে চরম উত্তেজনা

ভোটের আগে প্রচার ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হল শ্যামপুরে। বিজেপি প্রার্থী হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের প্রচার কর্মসূচি চলাকালীন বাইক মিছিল আটকায় পুলিশ। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।রবিবার শ্যামপুরে প্রচার শুরু করেন হিরণ। তাঁর সঙ্গে বহু কর্মী ও সমর্থক গেরুয়া পতাকা নিয়ে বাইক করে এগোচ্ছিলেন। সেই সময় শ্যামপুর-বাগনান রোডে পুলিশ মিছিলটি আটকায়। পুলিশের দাবি, আদর্শ আচরণবিধি জারি থাকার কারণে কোনও মিছিল বা জমায়েতের জন্য আগে অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু এই কর্মসূচির জন্য সেই অনুমতি নেওয়া হয়নি।ঘটনাস্থলে পুলিশ ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। হিরণ নিজেও পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর দাবি, এটি কোনও রাজনৈতিক মিছিল নয়, তাঁরা মন্দিরে পুজো দিতে যাচ্ছিলেন। তাঁর কথায়, সমর্থকেরা ধর্মীয় পতাকা নিয়ে এসেছিলেন, তাই এটিকে রাজনৈতিক কর্মসূচি বলা ঠিক নয়।তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রার্থী উপস্থিত থাকলে সেটিকে রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবেই ধরা হয় এবং সে ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি শান্ত হলে মিছিলটি এগোতে দেওয়া হয়।এদিন রাজ্যের অন্য জায়গাতেও উত্তেজনার খবর সামনে এসেছে। নানুরে পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে বচসা ও বিক্ষোভ হয়। দুর্গাপুরে সরকারি দেওয়াল থেকে প্রচার মুছতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মী আক্রান্ত হন বলেও অভিযোগ উঠেছে।ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনাগুলি রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলছে।

মার্চ ২২, ২০২৬
রাজ্য

ভোরের অন্ধকারে মাথায় গুলি, রাস্তায় লুটিয়ে মৃত্যু যুবকের—শিউরে উঠল গোলাবাড়ি

বুধবার ভোরে উত্তর হাওড়ার গোলাবাড়ি এলাকায় প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করে খুন করা হল এক যুবককে। ঘটনাটি কোনও সিনেমার দৃশ্য নয়, বাস্তবের এই নৃশংস খুনে শিউরে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মৃত যুবকের নাম সফিক খান। গুলি চালানোর পুরো ঘটনা এলাকার নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তোলাবাজি না কি পুরনো শত্রুতার জেরে এই হামলা, তা খতিয়ে দেখছে গোলাবাড়ি থানা।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোরের দিকে দুই দুষ্কৃতী সফিকের কাছে আসে। একজন সামনে দাঁড়ায় এবং অন্যজন পিছনে গিয়ে আচমকা বন্দুক বের করে মাথায় গুলি চালায়। যুবক মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে আরও কয়েক রাউন্ড গুলি চালানো হয়। এরপর দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ এবং তদন্ত শুরু করে। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। মৃতের পরিবারের দাবি, পুরনো বিবাদের জেরেই এই হামলা হয়েছে। পরিবারের এক সদস্য অভিযোগ করেন, হারুন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে অতীতে ঝামেলা ছিল এবং তিনিই আর এক দুষ্কৃতীকে নিয়ে এসে গুলি চালিয়েছেন।স্থানীয় বাসিন্দা পারভেজ জানান, ভোর প্রায় চারটা দশ মিনিটে ঘটনাটি ঘটে। দুই ব্যক্তি এসে সফিককে ডেকে কথা বলতে থাকে। তারপর একজন পিছনে গিয়ে দাঁড়ায় এবং অন্যজন সামনে থেকে মাথায় পরপর গুলি চালায়। পরে বুকে আরও গুলি করা হয়। গুলির শব্দে সেখানে থাকা কয়েক জন আতঙ্কে দৌড়ে পালিয়ে যান।এই নৃশংস খুনের ঘটনায় গোলাবাড়ি এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ এবং ঘটনার নেপথ্যের কারণ জানার চেষ্টা চলছে।

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬
রাজ্য

সপ্তাহান্তে বড় ধাক্কা, হাওড়া ডিভিশনে একসঙ্গে তিরিশ লোকাল বাতিল

সপ্তাহান্তে ফের ট্রেন বাতিলের জেরে ভোগান্তির আশঙ্কা বাড়ল নিত্যযাত্রীদের। পূর্ব রেলের পূর্ব রেল হাওড়া ডিভিশনে একগুচ্ছ লোকাল ট্রেন বাতিলের ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী একুশ ও বাইশ ফেব্রুয়ারি মিলিয়ে মোট তিরিশটি লোকাল ট্রেন চলবে না বলে জানানো হয়েছে। ফলে সপ্তাহান্তে যাতায়াতের পরিকল্পনা করা বহু যাত্রী সমস্যায় পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা।রেলের তরফে জানানো হয়েছে, তারকেশ্বর শাখায় শেওড়াফুলি ও দিয়াড়া স্টেশনের মধ্যে বিদ্যুৎ ও ট্রাফিক ব্লক নিয়ে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হবে। দিয়াড়া স্টেশনেও একই কারণে বিশেষ ব্লক নেওয়া হবে। একুশ ফেব্রুয়ারি রাত এগারোটা কুড়ি থেকে বাইশ ফেব্রুয়ারি সকাল নটা কুড়ি পর্যন্ত এই কাজ চলবে। সেই কারণেই বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।শনিবার বাতিল থাকবে রাত দশটা আঠারো মিনিটের গোঘাট থেকে হাওড়া লোকাল, রাত নটা আটত্রিশ মিনিটের তারকেশ্বর থেকে হাওড়া লোকাল, সন্ধ্যা সাতটা চল্লিশ মিনিটের হাওড়া থেকে গোঘাট লোকাল এবং রাত এগারোটা পাঁচ মিনিটের হাওড়া থেকে তারকেশ্বর লোকাল।রবিবার ভোর থেকে একাধিক ডাউন ট্রেন বাতিল থাকবে। তারকেশ্বর থেকে হাওড়াগামী ভোর তিনটে পঞ্চাশ, ভোর চারটে পঞ্চাশ, ভোর পাঁচটা পঁয়ত্রিশ, ভোর ছটা কুড়ি, সকাল সাতটা, সকাল সাতটা চল্লিশ, সকাল সাতটা পঞ্চান্ন এবং সকাল আটটা পঞ্চাশের লোকাল ট্রেন চলবে না। এছাড়াও আরও কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেল।একই দিনে আপ লাইনের ক্ষেত্রেও একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। ভোর চারটে পাঁচ, ভোর পাঁচটা ত্রিশ, ভোর পাঁচটা আটচল্লিশ, ভোর ছটা বত্রিশ এবং ভোর ছটা পঁয়তাল্লিশের হাওড়া থেকে তারকেশ্বর লোকাল সহ আরও কয়েকটি ট্রেন বাতিল থাকবে। সপ্তাহান্তে যাত্রীসংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও অনেকেই বেড়াতে যান বা জরুরি কাজে যাতায়াত করেন, ফলে ভোগান্তির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।এদিকে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য ভবিষ্যতেও মাঝেমধ্যে ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে জানিয়েছে পূর্ব রেল। বাঁশবেড়িয়া-তে রেলওভারব্রিজ নির্মাণের কাজের জন্য বাঁশবেড়িয়া ও ত্রিবেণী স্টেশনের মধ্যে নির্দিষ্ট দিনে প্রায় তিন ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ ও ট্রাফিক ব্লক নেওয়া হবে। ফেব্রুয়ারি মাসের উনিশ, কুড়ি, পঁচিশ, ছাব্বিশ, সাতাশ ও আঠাশ তারিখ এই ব্লক কার্যকর থাকবে এবং আগামী মাসগুলিতেও একই ধরনের ব্লক নেওয়া হবে। এর জেরে কয়েকটি ট্রেনের সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। যাত্রীদের স্টেশনের ঘোষণায় নজর রাখার অনুরোধ জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের মুখে হাওড়ায় ৬ রাউন্ড গুলি! পঞ্চায়েত প্রধান মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা

ভোটের মুখে ফের গুলির আতঙ্ক রাজ্যে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাওড়ার সাঁপুইপড়া বসুকাঠি এলাকায় চাঞ্চল্যকর হামলার শিকার হলেন পঞ্চায়েত প্রধান দেবব্রত মণ্ডল ওরফে বাবু মণ্ডল। তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক ছ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালে। তাঁর সঙ্গী অনুপম রানাও গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে একটি বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন বাবু মণ্ডল। সেখান থেকে বাইকে চেপে বাড়ি ফেরার পথেই ওঁত পেতে থাকা দুষ্কৃতীরা আচমকাই গুলি চালায়। বাইক চালাচ্ছিলেন অনুপম রানা। প্রথমেই গুলি লাগে তাঁর গায়ে। এরপর আরও কয়েক রাউন্ড গুলি চলে, তার একাধিকটি লাগে বাবু মণ্ডলের কাঁধ ও পেটে। রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে হাওড়ার একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাঁকে এসএসকেএমে স্থানান্তরিত করা হয়।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের এক জন জানিয়েছেন, প্রধানের বাইকের ঠিক পিছনেই ছিলেন তিনি। হঠাৎই সামনে থেকে নয়, পাশ দিক থেকে গুলি ছোড়ে এক দুষ্কৃতী। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা আতঙ্কে কেঁপে ওঠে। রাস্তায় ছুটোছুটি শুরু হয়। কে বা কারা এই হামলার সঙ্গে যুক্ত, তা এখনও স্পষ্ট নয়।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। শাসক দল তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই হামলার পিছনে রয়েছে বিজেপি। যদিও স্থানীয় সূত্রে উঠছে আরেকটি তত্ত্বতৃণমূলের অন্দরেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এই হামলার অন্যতম কারণ হতে পারে। পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখছে। তবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই উঠে আসছে আরও ভয়াবহ তথ্য। গত বুধবার রাতেই কসবা এলাকায় এক যুবককে লক্ষ্য করেও গুলি চালানো হয়। বছরখানেক আগেই সেই এলাকাতেই এক কাউন্সিলরকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। একই দিনে দিনের আলোতেই মালদাতেও গুলিচালনার ঘটনা সামনে আসে। ভোটের মাস কয়েক আগে রাজ্যের একের পর এক প্রান্তে এভাবে গুলি চলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগে প্রশাসনও।এলাকাবাসীর বক্তব্য, ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই যেন মাথাচাড়া দিচ্ছে হিংসা। সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছেনরাস্তায় বেরোতেও ভয় পাচ্ছেন অনেকে। রাজনৈতিক সংঘর্ষ কি এবার আরও বড় আকার নিতে চলেছে, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে রাজ্যজুড়ে।

নভেম্বর ২৮, ২০২৫
দেশ

হাওড়া-বেঙ্গালুরু দুরন্তের সঙ্গে দেউলটি–কোলাঘাটে বাইকের সংঘর্ষ, অল্পের জন্য রক্ষা পেল শতাধিক যাত্রী

শুক্রবার দুপুরে হাওড়া-বেঙ্গালুরু দুরন্ত এক্সপ্রেসে চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনা। দেউলটি ও কোলাঘাট স্টেশনের মাঝপথে হঠাৎই রেললাইনে উঠে আসা একটি মোটরবাইকের সঙ্গে ধাক্কা খায় ট্রেন। অল্পের জন্য রক্ষা পান শতাধিক যাত্রী।চোখের সামনে দৃশ্যটা ছিল শিউরে ওঠার মতো। বেলা সাড়ে ১১টার পর এক বাইক আরোহী নির্ধারিত লেভেল ক্রসিং এড়িয়ে সরাসরি লাইনের ওপর দিয়ে পার হচ্ছিলেন। আচমকাই বাইক আটকে যায় রেলের মাঝে। ঠিক তখনই দ্রুতগতিতে আসে হাওড়া-বেঙ্গালুরু দুরন্ত এক্সপ্রেস। মুহূর্তের মধ্যে বাইকটিকে ধাক্কা মারে ট্রেন। স্ফুলিঙ্গ বেরোতে দেখা যায় সংঘর্ষে। আতঙ্কে যাত্রীরা চিৎকার শুরু করেন। তবে সৌভাগ্যবশত ট্রেনের ইঞ্জিনে বড় কোনও ক্ষতি হয়নি।সংঘর্ষের পর ট্রেন প্রায় এক ঘণ্টা থেমে থাকে। ইঞ্জিনিয়াররা জরুরি পরীক্ষা চালান। দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় দুরন্ত। যাত্রীরা খানিকটা স্বস্তি পেলেও আতঙ্ক কাটেনি।স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় নজরদারির অভাব রয়েছে। বহু জায়গায় রেল ফেন্সিং ভাঙা বা অকার্যকর। প্রতিদিনই অবৈধ পারাপার হয়, অথচ রেলওয়ে কড়া ব্যবস্থা নেয় না। একজন যাত্রী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, এভাবে বাইক নিয়ে লাইনে ওঠা মানে শত যাত্রীর জীবন নিয়ে খেলা। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, এতবছর দেশে শতাধিক দুর্ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে রেললাইনে অবৈধ পারাপার। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সচেতনতা কর্মসূচি ও জরিমানার ব্যবস্থা চালু করলেও বাস্তবে কার্যকারিতা খুব সীমিত।দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ের সূত্রে খবর, এই ঘটনা ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারত। বাইক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরপিএফ ও জিআরপি ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। দেউলটি-কোলাঘাটের এই অঘটন আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখালরেললাইনে অবৈধ পারাপার কেবল বিপজ্জনকই নয়, একেকটা মুহূর্তে তা শত শত প্রাণের জন্য মৃত্যুফাঁদে পরিণত হতে পারে। এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে ঘটতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয়।

আগস্ট ২৯, ২০২৫
রাজ্য

কলকাতা থেকে সকালে বেরিয়ে সন্ধ্যায় ফিরুন বাড়ি, অসাধারণ এপ্রান্তে মনের আরাম, প্রাণের স্বস্তি!

ইঁদুর দৌড়ের জীবন থেকে ক্ষণিকের আরাম খুঁজছেন? ইচ্ছে থাকলেও কর্মস্থল থেকে লম্বা ছুটি ম্যানেজ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে? তাহলে আপনার জন্য সেরার সেরা ঠিকানা হতে পারে কলকাতার খুব কাছের এই অপরূপ তল্লাট। কলকাতা থেকে সকালে বেরিয়ে চাইলে সন্ধ্যের মধ্যেই ফিরতে পারেন বাড়ি। ঘুরে আসুন হাওড়া জেলার গড়চুমুক থেকে। এখানকার দামোদর এবং হুগলি নদীর অপরূপ পাড়ের অসাধারণ সৌন্দর্য আপনার মনকে মোহিত করে তুলবে। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে এই গড়চুমুকে বছরভর ভিড় লেগেই থাকে।তবে ভরা বর্ষায় এখানকার নদীপাড়ের অসাধারণ শোভা সত্যিই এক অনন্য রূপ ধারণ করে। গড়চুমুকের ৫৮ গেটের কাছের এই এলাকা ঢেলে সাজাচ্ছে রাজ্য সরকার। একদিনের ঝটিকা সফরে তাই বেরিয়ে আসুন অসাধারণ এই এলাকা থেকে।কলকাতা থেকে সকাল সকাল বেরিয়ে সন্ধ্যের মধ্যেই ফিরুন বাড়ি। পর্যটকদের বসার জন্য এখানে দারুন সব বন্দোবস্ত করা হয়েছে। চাইলে নদীবক্ষে নৌকাবিহারের আনন্দও নিতে পারেন।

আগস্ট ১৫, ২০২৫
রাজ্য

হাওড়ার বাউড়িয়ায় উদ্ধার ৭১০ কেজি গাঁজা, গ্রেফতার এক

হাওড়ার বাউড়িয়ায় উদ্ধার হল গাঁজা। ঘটনায় শেখ মাজেদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, গতকাল বুধবার বিকেলে বাউড়িয়া থানার অন্তর্গত কাজিরচড়া অশ্বথতলা এলাকায় শেখ মাজেদের বাড়িতে সিআইডি এবং নারকোটিক সেলের আধিকারিকরা যৌথ অভিযান চালায়। তল্লাশিতে ৭১১ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। যার বাজারি মূল্য এক কোটি টাকা। তার দুটি গাড়ি এবং তিনটি মোবাইল ফোনও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। অভিযোগ, ওড়িশা থেকে গাঁজা এনে বাড়িতে রেখেছিল। হাওড়া ও তার আশপাশের জেলায় পাচার করার উদ্দেশ্য ছিল মাজেদের। তাঁর বাড়ি থেকে ৩১টি বস্তা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শেখ মাজেদকে ২০২১ মাদক পাচারের অভিযোগে উলুবেরিয়া থানা গ্রেফতার করেছিল। ২০২৪ সালে নদিয়ার করিমপুরের একই অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিল সে। বিভিন্ন জায়গায় গাঁজা পাচার করত মাজেদ। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। আজ তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।

ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৫
রাজ্য

নতুন বছরের শুরু থেকে পূর্ব রেলওয়ের নতুন টাইম টেবিল, বাড়ছে ট্রেনের গতি

রেলওয়েতে নতুন টাইম টেবিল চালু হতে চলেছে নতুন বছরের শুরুর দিন থেকে। এর ফলে ট্রেন চালানোর অ্যালগরিদমের যথেষ্ট উন্নতির পাশাপাশি পথের অপ্টিমাইজেশনের ফলে ভ্রমণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা। ভ্রমণের সময় এই হ্রাস পরিচালনমূলক নমনীয়তা বৃদ্ধি করবে এবং অদূর ভবিষ্যতে আরও ট্রেনের ব্যবস্থা করার ব্যবস্থা করবে। কলকাতার পুরাতন কৈলাঘাট বিল্ডিং-এ তার সভা কক্ষে মঙ্গলবার প্রিন্সিপাল চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার, ইস্টার্ন রেলওয়ে, উদয় শঙ্কর ঝা, এক সাংবাদিক বৈঠকে পূর্ব রেলের নতুন টাইম টেবিলের বৈশিষ্ট্যগুলি ব্যাখ্যা করেন।উদয় শঙ্কর ঝা আরও ব্যাখ্যা করেছেন যে, এই উন্নতি হল সারা বছর ধরে পরিচালিত নিবেদিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ফলাফল এবং পূর্ব রেলের বিভিন্ন বিভাগে 3য়/4র্থ লাইন চালু করার ফলে যাত্রীরা দ্রুত এবং আরও উন্নতমানের ট্রেনযোগের জন্য অপেক্ষা করতে পারে। যাত্রা অবকাঠামো এবং ট্র্যাকগুলির আপগ্রেডগুলি ভ্রমণের সময়কে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে, রেল ভ্রমণে আরও আকর্ষণীয় বিকল্পগুলি তৈরি করবে। মেল/এক্সপ্রেস, প্যাসেঞ্জার ট্রেন এবং লোকাল ট্রেনের সময়ে বড় পরিবর্তনের সাথে সাথে নতুন ট্রেনের প্রবর্তন, ডাইভারশন, সময় পরিবর্তন, ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি, ট্রেনের পুনঃসংখ্যা ইত্যাদি যা নতুন সময় সারণীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শ্রী ঝা যাত্রীদের সুবিধার জন্য আরও ভাল পরিষেবা বজায় রাখার জন্য বৈধ যাত্রার টিকিট নিয়ে ভ্রমণ করার জন্য যাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানান।নতুন টাইম টেবিলের প্রধান বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে একটি নতুন কৃষ্ণনগর-রানাঘাট লোকাল এবং দুটি হাওড়া-সিঙ্গুর লোকালের (একটি তারকেশ্বর পর্যন্ত এবং অন্যটি হরিপাল পর্যন্ত) এর বর্ধিতকরণের ব্যবস্থা রয়েছে যা যাত্রীদের শহরতলির বিভাগের প্রয়োজন অনুসারে। ৪২টি গুরুত্বপূর্ণ মেল/এক্সপ্রেস ট্রেনের সময় পরিবর্তন করা হয়েছে এবং ভ্রমণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা হয়েছে। অধিকন্তু, ৭২টি মেল/এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রার সময় ০৫ মিনিট থেকে কমিয়ে ৫৫ মিনিটে এবং ৮টি যাত্রীবাহী ট্রেনের গতি বাড়ানো হবে (EMU/MEMU/DEMU সহ) তাদের যাত্রার সময় ০৬ মিনিট থেকে ২০ মিনিটে কমবে।উল্লেখ্য যে, ৮৬টি প্যাসেঞ্জার ট্রেন, ৪৪টি DEMU যাত্রী এবং ১৪৬টি MEMU যাত্রী একটি নতুন নম্বর দিয়ে চলবে।

ডিসেম্বর ৩১, ২০২৪
রাজ্য

নিত্যযাত্রীদের জন্য বিরাট সুখবর, পূর্ব রেলের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা

নিত্যযাত্রীরা বিশেষত অর্থাৎ যারা অফিস, আদালত, স্কুল, কলেজ বা ব্যবসার কাজে রোজই একটু দূরে বিশেষত কলকাতা বা সংলগ্ন অঞ্চলে যাতায়াত করে থাকেন, তাঁদের দীর্ঘ দিনের চাহিদা পূরণে ইন্টারসিটি ধরণের মাঝারি দূরত্বের এক্সপ্রেস ট্রেনগুলিতে অতিরিক্ত রিজার্ভড (সংরক্ষিত ) কোচ জুড়তে চলেছে পূর্বরেল। এই রিজার্ভড কোচ সংযুক্তির ফলে তাদের যাতায়াত আরও সুগম হয়ে উঠবে যা আর্থসামাজিক উন্নয়নেরও সহায়ক। পাঁচটি ট্রেন যেমন ১২৩৩৭/১২৩৩৮ হাওড়া - বোলপুর - হাওড়া শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস, ১২৩৩৯/১২৩৪০ হাওড়া - ধানবাদ - হাওড়া কোলফিল্ড এক্সপ্রেস, ১২৩৪১/১২৩৪২ হাওড়া - আসানসোল - হাওড়া অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস, ১৩০১১/১৩০১২ হাওড়া - মালদা - হাওড়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস এবং ০৩০৪৭/০৩০৪৮ হাওড়া - রামপুরহাট - হাওড়া বিশ্বভারতী ফাস্ট প্যাসেঞ্জার ট্রেনগুলিতে লাগছে একটি করে অতিরিক্ত দ্বিতীয় শ্রেণীর চেয়ার কার। এই অতিরিক্ত কোচের সংযোজন ২৭ থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই উভয় প্রান্ত থেকে কার্যকর হবে। এছাড়াও, ১৩০৪৫/১৩০৪৬ হাওড়া - দেওঘর - হাওড়া ময়ূরাক্ষী এক্সপ্রেসে লাগছে একটি অতিরিক্ত সাধারণ দ্বিতীয় শ্রেণীর রিজার্ভড কোচ। এই ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযুক্তি হাওড়া থেকে ৩০শে নভেম্বর এবং দেওঘর প্রান্ত থেকে ১লা ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে। ২২৩২১/২২৩২২ হাওড়া - সিউড়ি - হাওড়া হুল এক্সপ্রেসে যাত্রীদের জন্য আরও সুখবর। তারা পাচ্ছেন একটি অতিরিক্ত এসি ৩ টায়ার কোচের সংযোজন। এতদিন পর্যন্ত এই গাড়িতে যাত্রীরা কেবলমাত্র বসেই যাতায়াত করতে পারতেন, কিন্তু এখন এসি ৩ টায়ার কোচের সংযোজনের ফলে যাত্রীরা শুয়ে অথবা ঘুমিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন। অতিরিক্ত কোচের সংযুক্তির ফলে হুল এক্সপ্রেসের কোচ সংখ্যাও ১৩টি কোচ থেকে ১৪ টি কোচে বৃদ্ধি পেলো। এই এসি ৩ টায়ার কোচের সংযোজন উভয় প্রান্ত থেকেই ৩০শে নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে। নিত্যযাত্রীদের চাহিদা পূরণে পূর্বরেল সর্বদাই সচেষ্ট। সময়বিশেষে দ্বিতীয় শ্রেণীর অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের ফলে সাধারণ যাত্রীরা সাশ্রয়কারী যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে রেলের উপর বিশেষ নির্ভরশীল। রেলের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নিত্য যাত্রীরা।

নভেম্বর ২৬, ২০২৪
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

আমেরিকা-ইউরোপের সমালোচনার মাঝেই রাশিয়া নিয়ে বড় বার্তা জয়শংকরের, মনে করালেন সেই পুরনো ‘বন্ধুত্ব’

রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে ফের নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল নয়াদিল্লি। রুশ তেল কেনা নিয়ে আমেরিকা ও ইউরোপের একাংশের সমালোচনার মধ্যেই বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর মনে করিয়ে দিলেন, ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক শুধুমাত্র বর্তমান পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল নয়। এর পিছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস এবং কঠিন সময়ে মস্কোর পাশে থাকার অভিজ্ঞতা। জয়শংকরের কথায়, দেশের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা যখনই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, তখনই সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পরে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।রবিবার নয়াদিল্লিতে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের আলোচনায় রাশিয়া প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন জয়শংকর। তিনি বলেন, মানুষ যেমন ভাল ইতিহাস ভুলে যায় না, তেমনই খারাপ ইতিহাসও ভুলে যায় না। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে স্বাধীনতার পর থেকে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের দীর্ঘ সম্পর্কের প্রসঙ্গ। বিদেশমন্ত্রীর মতে, প্রতিটি দেশ নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বিচার করে। তাই ইউরোপ যে ভাবে রাশিয়াকে দেখবে, ভারত একই ভাবে রাশিয়াকে দেখবে, এমনটা হওয়ার নয়।জয়শংকর বিশেষ করে সেই সময়ের কথা মনে করিয়ে দেন, যখন আন্তর্জাতিক মহলের বড় অংশ পাকিস্তানের সামরিক শাসনের পাশে ছিল। তাঁর বক্তব্যে ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রসঙ্গও উঠে আসে। সেই সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতার কথা উল্লেখ করে বিদেশমন্ত্রী বলেন, ভারতের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা যখন চাপের মুখে পড়েছিল, তখন মস্কো নয়াদিল্লির পাশে ছিল। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় বঙ্গোপসাগরে আমেরিকার নৌবহর পাঠানোর ঘটনাকেও তাঁর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখা হচ্ছে।বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে বদলেছে ঠিকই, কিন্তু তার ভিত্তি এখনও শক্তিশালী। সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি পরমাণু শক্তি, বাণিজ্য, জ্বালানি ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক বিস্তৃত হয়েছে। তাঁর কথায়, রাশিয়া সম্পর্কে ভারতের অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিন ধরেই ইতিবাচক এবং সেই অভিজ্ঞতা বর্তমান নীতিতেও প্রভাব ফেলছে।এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে পশ্চিমী দেশগুলির চাপ ও সমালোচনা অব্যাহত। জয়শংকর এর আগেও স্পষ্ট করেছেন যে জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে ভারতের সিদ্ধান্ত নির্ভর করে জ্বালানির প্রাপ্যতা, দাম এবং ঝুঁকির মতো বিষয়গুলির উপর। ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই সরবরাহের উৎস ঠিক করা হয়।রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেন জয়শংকর। তাঁর বক্তব্য, যুদ্ধের অবসান হওয়া প্রয়োজন এবং আলোচনার মাধ্যমেই তার পথ খুঁজতে হবে। তিনি জানান, ভারত রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রেখে সংঘাতের অবসানে সহায়ক ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে। কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল, খাদ্য ও জ্বালানি রফতানি এবং সংঘাত কমানোর মতো বিষয়েও ভারতের আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।সব মিলিয়ে রুশ তেল নিয়ে পশ্চিমী চাপের মধ্যেও জয়শংকরের বক্তব্যে ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের অবস্থানই ফের সামনে এসেছে। ইতিহাস, নিরাপত্তা এবং জ্বালানি প্রয়োজনএই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি।

অক্টোবর ০৪, ২০২৬
কলকাতা

এসআরএফটিআই-এর গেট ভেঙে ঢোকার চেষ্টা! মিছিল ঘিরে তুমুল উত্তেজনা, ছোড়া হল ইট-পাথর

বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের মিছিল ঘিরে ফের উত্তেজনা ছড়াল এসআরএফটিআই-এর সামনে। অজয়নগর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গেট পর্যন্ত মিছিল করে সংগঠনটি। অভিযোগ, গেটের সামনে পৌঁছনোর পর কয়েক জন মিছিলকারী ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।এ দিকে, মিছিলকারীরা গেটের বাইরে জড়ো হওয়ার সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে পড়ুয়া এবং অধ্যাপকদের হেলমেট পরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। বাইরে থেকে ভিতরে ইট ও জলের বোতল ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। পাল্টা বিক্ষোভকারীদের কয়েক জনও আহত হয়েছেন বলে দাবি বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের।এই ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবারের একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। এসআরএফটিআই-এর অডিটোরিয়ামে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতির একটি অনুষ্ঠান ছিল। অভিযোগ, সেখানে এসএফআইয়ের কয়েক জন পড়ুয়া গিয়ে উত্তেজনা তৈরি করেন। ভারতমাতা এবং স্বামী বিবেকানন্দের ছবি ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও ওঠে। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতির তরফে প্রতিবাদ জানানো হয়।এর পর দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইট-পাথর ছোড়াছুড়ির অভিযোগে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। ঘটনায় কয়েক জন আহত হন বলে দাবি। প্রায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এই ঘটনায় চারটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার পর উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ সরকার জানিয়েছিলেন, ভারতমাতা বা স্বামী বিবেকানন্দকে অসম্মান করার অভিযোগে কাউকে রেয়াত করা হবে না। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই এ দিন বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের মিছিল হয়।অজয়নগর থেকে মিছিলটি এসআরএফটিআই-এর গেটের সামনে পৌঁছতেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, কয়েক জন বিক্ষোভকারী গেট ধরে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন এবং ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। এর মধ্যেই ভিতরে থাকা পড়ুয়া এবং অধ্যাপকদের দিকে জলের বোতল ও পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে।এই ঘটনায় অধ্যাপক দেবাশিস সেনশর্মা আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতেই তিনি আহত হন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বেশ কয়েক জন বিক্ষোভকারীকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।অন্য দিকে, বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের দাবি, তাঁদের কয়েক জন সদস্যও আহত হয়েছেন। সংগঠনের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতর থেকে পড়ুয়া এবং অধ্যাপকদের ছোড়া জলের বোতলের আঘাতেই তাঁদের কয়েক জন জখম হয়েছেন। তবে এই অভিযোগের স্বাধীন ভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য মেলেনি।বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যদের বক্তব্য, ভারতমাতা এবং স্বামী বিবেকানন্দের ছবিকে অসম্মান করার অভিযোগের প্রতিবাদেই তাঁদের এই কর্মসূচি। সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই মিছিলের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তেজনা তৈরি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে পুলিশ। এসআরএফটিআই-এর তরফে এই দিনের ঘটনার বিষয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে গেটের সামনে ঠিক কী ভাবে ইট-পাথর ও জলের বোতল ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে দুই পক্ষের অভিযোগই এখন সামনে রয়েছে।

অক্টোবর ০৪, ২০২৬
বিদেশ

‘বিমানটাকে ধ্বংস করাই ছিল লক্ষ্য’, জেরায় কী বললেন ফ্লাইদুবাইয়ের সহকারী পাইলট? সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

মাঝ আকাশে ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের উপর হামলার ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য। তদন্তকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওমানের নাগরিক সহকারী পাইলট হামাম আল-হামামি জেরায় জানিয়েছেন, যাত্রী-সহ বিমানটি ধ্বংস করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। একই জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নাকি বলেছেন, আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না।এই তথ্য প্রকাশ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তদন্তকারীদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় হামাম নিজের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এমন কথা জানিয়েছেন। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং তাঁর বক্তব্যের পাশাপাশি অন্য তথ্য-প্রমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার। দুবাই থেকে তেল আভিভ যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটি। মাঝ আকাশে আচমকাই ককপিটে ভারতীয় অধিনায়ক স্মিত মচ্ছরের উপর হামলা করেন সহকারী পাইলট হামাম। বিমানের ককপিটে থাকা জরুরি কুঠার ব্যবহার করে হামলা করা হয়েছিল বলে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এরপর বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত নীচের দিকে নামতে শুরু করে।আক্রমণের পরেও স্মিত মচ্ছর ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত যাত্রী এবং বিমানে থাকা অন্যদের সাহায্যে হামামকে কাবু করা সম্ভব হয়। পরে অন্য পাইলটরা বিমানের নিয়ন্ত্রণ সামলে নেন। বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে।এই ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, ককপিটে এমন ভয়াবহ হামলার আসল উদ্দেশ্য কী ছিল। প্রথম দিকে ব্যক্তিগত বিরোধের সম্ভাবনা নিয়েও নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, তদন্তে সহকারী পাইলটের সন্ত্রাসী হামলা চালানোর চেষ্টা ধরা পড়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।এখন তদন্তকারীরা হামামের অতীত, তাঁর মতাদর্শ এবং অন্য কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। ওমানের কর্তৃপক্ষ আগে তাঁর বিমান চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল বলে তদন্ত-সূত্র উদ্ধৃত করে একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তাঁর কথিত উগ্রপন্থী ভাবধারার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।হামামকে সৌদি আরব থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানেও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইজরায়েলের তদন্তকারী সংস্থাগুলি ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে। তাঁর সঙ্গে কোনও বহিরাগত শক্তির যোগাযোগ ছিল কি না, সেই প্রশ্নও তদন্তের অংশ।বিমানটির আকস্মিক পতনের ভয়াবহতাও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। উড়ান-তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটির সময় বিমানটি মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার ফুট নীচে নেমে গিয়েছিল। যাত্রী ও বিমানের অন্য কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপ এবং পরে অতিরিক্ত পাইলটদের সহায়তায় বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।ফলে ফ্লাইদুবাইয়ের এই ঘটনা এখন শুধু ককপিটে পাইলটের উপর হামলার তদন্তে সীমাবদ্ধ নেই। বিমানটি কেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, হামামের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তাঁর অতীত সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ কতটা তথ্য জানত এবং তাঁর সঙ্গে অন্য কারও যোগাযোগ ছিল কি নাএই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামামের জেরায় উঠে আসা দাবিগুলির পাশাপাশি অন্যান্য প্রমাণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

অক্টোবর ০৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেসির ম্যাচে টিকিট কেটেও ঢুকতে পারেননি? এ বার উরুগুয়ে ম্যাচে বড় উপহার, ২২ হাজার পাস বিনামূল্যে!

মেসির ম্যাচে টিকিট কেটেও যাঁরা বঞ্চিত হয়েছিলেন, তাঁদের জন্য বড় ঘোষণা। আগামী ৬ অক্টোবর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারত-উরুগুয়ে ম্যাচে ২২ হাজার বিনামূল্যের পাস দেওয়া হবে। গত বছর মেসির কলকাতা সফরের অনুষ্ঠানের জন্য অনলাইনে টিকিট কেনা দর্শকদের মধ্য থেকেই এই সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।তবে প্রশ্ন ছিল, সেই পাস পাওয়া যাবে কোথা থেকে এবং কী ভাবে? এ বার সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। তাঁর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ ডিসেম্বর কলকাতায় মেসির অনুষ্ঠানের জন্য যাঁরা টিকিট কিনেছিলেন, তাঁরাই ভারত-উরুগুয়ে ম্যাচের বিনামূল্যের পাস সংগ্রহ করতে পারবেন।পাস সংগ্রহের সময়ও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৫ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে পাস সংগ্রহ করতে হবে। তবে শুধু আগের টিকিট থাকলেই হবে না। পাস নিতে গেলে সঙ্গে রাখতে হবে বৈধ সরকারি ছবি-সহ পরিচয়পত্র। ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স অথবা পাসপোর্টের মতো পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। একই সঙ্গে গত ডিসেম্বরে মেসির অনুষ্ঠানের জন্য কেনা আসল টিকিটও সঙ্গে রাখতে হবে।অর্থাৎ মেসির অনুষ্ঠানের পুরনো টিকিটটি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই টিকিট এবং বৈধ পরিচয়পত্র যাচাই করার পরেই বিনামূল্যের পাস দেওয়া হবে। নতুন করে ভারত-উরুগুয়ে ম্যাচের টিকিট কেনার প্রয়োজন হবে না এই নির্দিষ্ট দর্শকদের।গত বছরের ডিসেম্বরে মেসিকে দেখতে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিপুল ভিড় হয়েছিল। বহু দর্শক টাকা দিয়ে টিকিট কেনার পরেও প্রত্যাশিত ভাবে অনুষ্ঠান দেখতে পারেননি। ভিড় ও বিশৃঙ্খলা নিয়ে সেই সময় ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার পর বঞ্চিত দর্শকদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন ছিল। এ বার তাঁদের মধ্য থেকে ২২ হাজার দর্শককে ভারত-উরুগুয়ে ম্যাচ দেখার সুযোগ করে দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই এই ঘোষণা সামনে আসে। তার পর থেকেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল, বঞ্চিত দর্শকরা কোথা থেকে পাস সংগ্রহ করবেন। ক্রীড়ামন্ত্রীর ঘোষণায় এ বার সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুরনো টিকিট এবং বৈধ পরিচয়পত্র নিয়ে পাস সংগ্রহ করতে হবে।ফলে যাঁরা গত ডিসেম্বরে মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে টিকিট কেটেও বঞ্চিত হয়েছিলেন, তাঁদের জন্য এ বার যুবভারতীতেই ফের আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখার সুযোগ তৈরি হল। ৬ অক্টোবর ভারত-উরুগুয়ে ম্যাচে সেই দর্শকদের একাংশ গ্যালারিতে থাকবেন কি না, এখন সেটাই দেখার।

অক্টোবর ০৪, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

সৃজলার কাছে বারবার ক্ষমা, এবার প্রকাশ্যেই কাঁদতে কাঁদতে কী বললেন নন্দিনীর মা?

বিগ বসের দুর্গে সৃজলা গুহর সঙ্গে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা নিয়ে এখনও অনুশোচনায় রয়েছেন নন্দিনী দত্ত। ঘটনার পর একাধিক বার সৃজলার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। এবার প্রকাশ্যেই সৃজলার পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইলেন নন্দিনীর মা। একটি সাক্ষাৎকারে মেয়ের হয়ে ক্ষমা চেয়ে তিনি আবেদন করেন, সৃজলার পরিবার যেন নন্দিনীকে ক্ষমা করে দেয়।নন্দিনীর মা বলেন, পারলে প্লিজ ওকে ক্ষমা করে দিন। দুসপ্তাহ ধরে তো দেখছি, ঘটনার পর থেকে নন্দিনী ভালো নেই।কী ঘটেছিল বিগ বসের দুর্গে? কয়েক সপ্তাহ আগে ক্যাপ্টেন হওয়ার টাস্কে প্রথমে সঙ্গীতের চেয়ার খেলা হয়। সেই পর্বের পর পরবর্তী খেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান সৃজলা, মনামী, জীতু, তনুশ্রী এবং রাজবীর। তাঁদের সামনে ছিল কাঠের ঘোড়ায় বসে থাকার টাস্ক। যিনি শেষ পর্যন্ত ঘোড়ায় বসে থাকতে পারবেন, তিনিই ক্যাপ্টেন হবেন।খেলার নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিযোগীরা অন্যদের ঘোড়া থেকে নামানোর চেষ্টা করতে পারতেন। তবে সেই সময় কারও শরীরে আঘাত না করার নিয়ম ছিল। সেই টাস্ক চলাকালীন নন্দিনী সৃজলাকে ঘোড়া থেকে নামানোর চেষ্টা করেন। সেই সময় সৃজলা পড়ে গিয়ে গুরুতর চোট পান। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।চোটের কারণে সৃজলাকে পাঁচ দিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল। চিকিৎসার পর তিনি আবার বিগ বসের দুর্গে ফিরে আসেন। সৃজলা ফিরে আসার পর থেকেই নন্দিনীকে একাধিক বার তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। নিজের ভুল স্বীকার করে ফের বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টাও করতে দেখা যায় তাঁকে।তবে সৃজলার পক্ষ থেকে এই ঘটনায় কষ্ট বা রাগ থাকা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন অনেকেই। সেই আবহেই কয়েক দিন আগে প্রতিযোগীদের পরিবারের উদ্দেশে চিঠি লেখার সুযোগ দেওয়া হয়। সেই চিঠিতে নন্দিনী তাঁর মা-বাবাকে সৃজলার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্ষমা চাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।এবার সেই অনুরোধের কথাই প্রকাশ্যে জানালেন নন্দিনীর মা। মেয়ের হয়ে সৃজলার পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে নন্দিনী মানসিক ভাবে ভালো নেই। তাই সৃজলার পরিবার যদি তাঁকে ক্ষমা করে, সেটাই তাঁদের কাছে বড় বিষয় হবে।অন্য দিকে, সাক্ষাৎকারে রাজবীরের প্রসঙ্গও ওঠে। সেই প্রসঙ্গে নন্দিনীর মা স্পষ্ট করে জানান, মেয়ের পছন্দই তাঁদের পছন্দ। ফলে বিগ বসের দুর্গে সৃজলা-নন্দিনীকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই নন্দিনীর পরিবারের তরফে এল নতুন বার্তা।সৃজলার চোটের পর থেকে এই ঘটনা নিয়ে বিগ বসের দর্শকদের মধ্যেও আলোচনা চলছে। এক দিকে নন্দিনীর অনুশোচনা ও ক্ষমা চাওয়া, অন্য দিকে সৃজলার পরিবারের প্রতি তাঁর মায়ের প্রকাশ্য আবেদনসব মিলিয়ে ঘটনাটি ফের নতুন করে চর্চায় এসেছে।

অক্টোবর ০৪, ২০২৬
কলকাতা

‘পা ভাঙেনি’ শুভেন্দুর দাবির পরেই নতুন বিস্ফোরণ, মমতার পুরনো ছবি দেখিয়ে কী প্রশ্ন শান্তনুর?

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে ঠিক কী হয়েছিল, পাঁচ বছর পর সেই পুরনো ঘটনা ঘিরে ফের তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে কোনও হাড় ভাঙার প্রমাণ ছিল না। একটি চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি দেখিয়ে তিনি এই দাবি করেন এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্তের কথাও জানান।শুভেন্দুর ওই দাবির পরেই এ বার সরব হলেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা চিকিৎসক শান্তনু সেন। সমাজমাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লাগার সময়ের চারটি ছবি প্রকাশ করে তিনি একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। একটি ছবিতে গোড়ালির কাছে কালশিটের দাগ দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি। অন্য একটি ছবিতে গোড়ালির কাছে রক্তপাতের মতো দাগ রয়েছে। বাকি ছবিগুলিতে পায়ে প্লাস্টার দেখা যাচ্ছে।এই ছবিগুলি প্রকাশ করে শান্তনু সেন দাবি করেছেন, ১০ মার্চ চোট পাওয়ার পর এসএসকেএম হাসপাতালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের যে ছবি দেখা গিয়েছিল, সেখানে গোড়ালির উপরে কালশিটে ছিল, কিন্তু রক্তপাতের চিহ্ন ছিল না। তাঁর প্রশ্ন, পরে প্রকাশিত ছবিতে রক্তের দাগ দেখা গেল কী ভাবে?শান্তনুর আরও প্রশ্ন, যদি চোট পাওয়ার সময় রক্তপাত না হয়ে থাকে, তা হলে পরবর্তী সময়ে ছবিতে রক্তের মতো দাগ কেন দেখা গেল? একই সঙ্গে পায়ে দীর্ঘদিন প্লাস্টার থাকার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, চিকিৎসক হিসেবে তিনি অভিযোগ করছেন না, কিছু বিষয় নিয়ে পর্যবেক্ষণ জানাচ্ছেন।শান্তনু সেনের দাবি, কোনও আঘাতের কারণে রক্তপাত হলে সাধারণত সেই সময়েই তার প্রকাশ ঘটে। পরে সেই রক্তপাতের ছবি সামনে এলে সেটিকে পুরনো আঘাতের সঙ্গে যুক্ত করা কঠিন। পায়ে প্লাস্টার করার প্রয়োজন হলে সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের পর তা খুলে ফেলার কথাও বলেন তিনি। তবে এই মন্তব্য তাঁর চিকিৎসক হিসেবে ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ, ২০২১ সালের চিকিৎসা-ঘটনা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।এত দিন কেন তিনি এই প্রশ্ন তোলেননি, সেই প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন শান্তনু। তাঁর বক্তব্য, এত দিন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল না বলেই তিনি কিছু বলেননি। এখন নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে বলেই তিনি নিজের পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন।একই সঙ্গে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং চিকিৎসকদের নিয়ে পুরনো অভিযোগের প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন শান্তনু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পারিবারিক চিকিৎসক এসপি দাসকে ঘিরেও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, আগে তিনি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কথিত ভয় দেখানোর সংস্কৃতি নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন এবং তার জেরেই তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল।তবে শান্তনুর এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলে থাকাকালীন শান্তনু সেন দলের কাছ থেকে একাধিক রাজনৈতিক সুযোগ পেয়েছেন। এত বছর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো চোট নিয়ে প্রশ্ন তোলারও সমালোচনা করেন তিনি।এর মধ্যেই ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম-চোটের ঘটনা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী যে চিকিৎসা-নথি প্রকাশ্যে এনেছেন, তাতে ১১ মার্চের পরীক্ষার রিপোর্টে পায়ে হাড় ভাঙার প্রমাণ না থাকার কথা বলা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। অন্য দিকে, সেই সময়ের চিকিৎসা-পর্বে মমতার পায়ে গুরুতর আঘাতের কথা হাসপাতালের চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছিল। ফলে পুরনো নথি, নতুন দাবি এবং পাল্টা প্রশ্ন ঘিরে বিতর্ক আরও জটিল হয়েছে।এই আবহে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষও পুরনো ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে মমতার চোট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে নন্দীগ্রামে ২০২১ সালের সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাঁচ বছর পর আবারও রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আসলে সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে কী ধরনের চোট হয়েছিল, প্রকাশ্যে আসা চিকিৎসা-নথি ও ছবির মধ্যে কী সম্পর্ক রয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর নিয়েই এখন শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।

অক্টোবর ০৪, ২০২৬
রাজ্য

সিপিএম অফিসের সামনেই হনুমান চালিশা পাঠ! স্বপনের মন্তব্যে তেতে উঠল বাঁকুড়া, ‘ওষুধ’-এর হুঁশিয়ারি

হনুমান চালিশা নিয়ে সিপিআই-এর রাজ্য সম্পাদক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়ল। তাঁর মন্তব্যের প্রতিবাদে বাঁকুড়া জেলা সিপিএম কার্যালয়ের সামনে হনুমান চালিশা পাঠের আয়োজন করল বজরং দল। শনিবার সন্ধ্যার এই কর্মসূচিকে ঘিরে বাঁকুড়া সদর এলাকায় রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। সংগঠনের তরফে স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।সম্প্রতি পশ্চিম মেদিনীপুরের একটি সভায় হনুমান চালিশা পাঠ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, হনুমান চালিশা হনুমানেরাই পড়ে। তাঁরা হনুমান নন এবং হনুমানের দলও করেন না। তাঁদের রাজনৈতিক আদর্শ মার্কসবাদ, লেনিনবাদ এবং গান্ধীবাদএমনই বক্তব্য রেখেছিলেন তিনি। সেই মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়।এর পর শনিবার সন্ধ্যায় বাঁকুড়া জেলা সিপিএম কার্যালয়ের সামনে হাজির হন বজরং দলের কর্মীরা। সেখানে হনুমান চালিশা পাঠ করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু কোনও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে কটাক্ষ করা হলে তার প্রতিবাদ করা হবে।বজরং দলের নেতা বাপ্পা দাস বলেন, স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। ক্ষমা না চাইলে তাঁরা তাঁদের মতো করে ওষুধ ঠিক করে রেখেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ওষুধ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি বাপ্পা। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।বজরং দলের দাবি, তাঁদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল। কোনও হিংসাত্মক কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়নি বলেও সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক মতাদর্শের সমালোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত করে মন্তব্য করা উচিত নয়। সেই কারণেই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে প্রকাশ্যে মন্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।অন্য দিকে, ওষুধ শব্দটি ব্যবহার করে দেওয়া বার্তাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীদের একাংশের বক্তব্য, ধর্মীয় আবেগকে সামনে রেখে এমন ভাষা ব্যবহার করলে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেনি এবং বজরং দলের পক্ষ থেকেও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের কথাই জানানো হয়েছে।ফলে হনুমান চালিশা নিয়ে স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বাঁকুড়ায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। সিপিএম কার্যালয়ের সামনে হনুমান চালিশা পাঠ এবং তার পরেই ক্ষমা না চাইলে ওষুধ-এর মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

অক্টোবর ০৪, ২০২৬
রাজ্য

বাইরনের বাড়িতে আগুনের নেপথ্যে কী? দুর্ঘটনা, না কি ইচ্ছাকৃত অগ্নিকাণ্ড—তদন্তে পুলিশ

মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে নিজের বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন সাগরদিঘির বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ তাঁর বাড়ি থেকে আগুনের শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর দেওয়া হয় দমকলে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে বাড়ির ভিতর থেকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় বাইরনকে উদ্ধার করা হয়। এই অগ্নিকাণ্ড কী ভাবে ঘটল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।স্থানীয়দের দাবি, বাড়ির দোতলা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে তাঁরা প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারেন। খবর পেয়ে দমকল ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়দের তৎপরতায় বাইরনকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় বলে পুলিশ ও দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে।অগ্নিকাণ্ডে বাইরনের হাত ও পায়ের বেশ কিছু অংশ পুড়ে গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে শরীরের কতটা অংশ পুড়েছে, তা নিয়ে ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে তাঁর আঘাতের মূল জায়গা হাত ও পা বলেই জানা গিয়েছে।এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কী ভাবে বাইরনের বাড়িতে আগুন লাগল? প্রাথমিক ভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ ও দমকল বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। একটি প্রতিবেদনে বৈদ্যুতিক গোলযোগ বা বাড়ির সঙ্গে যুক্ত বিড়ি তৈরির কারখানা থেকে আগুন ছড়ানোর সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। ফলে এখনই ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হামলা বা পুড়িয়ে মারার চেষ্টা বলে নিশ্চিত করার মতো তথ্য সামনে আসেনি।তবে ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বাইরন সেই সময় বাড়ির ভিতরে কেন ছিলেন, আগুনের সূত্রপাত ঠিক কোথায় এবং কী ভাবে আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের পিছনে দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা স্পষ্ট হবে না।বাইরন বিশ্বাসের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আপাতত স্বস্তির খবর দিয়েছে পুলিশ। জঙ্গিপুরের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, তাঁর আঘাত খুব গভীর নয় এবং তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন। অন্য দিকে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ও দমকল। ফলে সাগরদিঘির বিধায়কের বাড়িতে এই আগুন নিছক দুর্ঘটনা, না কি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছে তদন্তকারীরা।

অক্টোবর ০৪, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal